ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের ইতিহাসে দারুণ রেকর্ড রয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার। সেরা চারের লড়াইয়ে কখনই হারেনি তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। পাঁচবার সেমিফাইনাল খেলে জিতেছে প্রতিবারই। এদিকে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার মতো এতবার সেরা চারে উঠা হয়নি ইংল্যান্ডের। ২০২৬ সালের হিসাব বাদ দিলে থ্রি লায়ন্সরা এখন পর্যন্ত মোট তিনবার সেমিফাইনালে উঠেছে মোট তিনবার।
১৯৬৬ সালের আগে মোট চারবার বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায় ইংল্যান্ড। এর মধ্যে দুবার গ্রুপ পর্বে বাদ পড়ে তারা। আর দুবার উঠে কোয়ার্টার ফাইনালে। সেরা আটের লড়াইয়ে দুবারই হেরেছে ইংলিশরা।
১৯৬৬ বিশ্বকাপ
১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপেই প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা পেরিয়ে সেমিফাইনালে উঠে ইংল্যান্ড। সেবার শুধু সেমিই নয়, ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্র শিরোপাও জিতেছিল থ্রি লায়ন্সরা। সেরা চারের লড়াইয়ে ইউসেবিওর পর্তুগালকে ২-১ গোল ব্যবধানে হারিয়ে উঠে যায় ফাইনালে। আর শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে পশ্চিম জার্মানিকে ৪-২ গোল ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড।
১৯৯০ বিশ্বকাপ
দীর্ঘ দুই যুগ পর আবারও সেরা চারে ওঠার কৃতিত্ব অর্জন করে ইংল্যান্ড। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচটি ১-১ গোল ব্যবধানে শেষ হলে টাইব্রেকারে আর পেরে উঠেনি ইংল্যান্ড। পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে তারা টাইব্রেকারে হেরে যায় ৪-৩ ব্যবধানে।
২০১৮ বিশ্বকাপ
এবারের অপেক্ষাটা আরও বড়। দীর্ঘ ২৮ বছর পর সেমিফাইনালে উঠে ইংল্যান্ড। সেমিফাইনালে উঠার লড়াইয়ে তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে পায় সেবারের বিশ্বকাপে চমক দেখিয়ে সেরা চারে জায়গা করে নেওয়া লুকা মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়াকে। আপাতত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছিলো সহজ জয়ই পাবে ইংলিশরা। কিন্তু সেই ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে যায় ইংল্যান্ড।
আগের তিনবার সেমিফাইনাল খেলে কেবল একবারই ফাইনালের টিকিট কাটতে পেরেছিল ইংল্যান্ড। আর সেবারই জিতে নেয় শিরোপা। হ্যারি কেইনদের নেতৃত্বাধীন ইংল্যান্ড এবার পারবে আর্জেন্টিনার বাধা অতিক্রম করতে পারবে কি না তা সময়ই বলে দেবে।
খুলনা গেজেট/রুএ

